সদর উপজেলার ১১ নম্বর রামনগর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত একটি রাস্তা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে রামনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খরিচাডাঙ্গা এলাকায় গৌতমের বাড়ি থেকে শম্ভুর বাড়ির অভিমুখে রাস্তা পূর্ণ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির জন্য সরকারি বরাদ্দ ধরা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার সলিংয়ের কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী বালি ব্যবহার করা হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও পর্যাপ্ত বালি না দেওয়ায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এছাড়া নির্মাণকাজে পুরানো ইট ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্ধারিত মান ও নির্দিষ্ট পরিমাণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং সরকারি বরাদ্দের পুরো অর্থ প্রকল্পের কাজে যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যয় করা হলে রাস্তা নির্মাণের মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিভিন্ন অংশ বসে যাওয়া বা ইট উঠে পড়ার কথা নয়। তাদের দাবি, কাজের মান এতটাই নিম্নমানের যে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থান বসে গেছে এবং সেখানে পানি জমছে যাতে স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন পরিস্থিতি হলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে জনগণ ভোগ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের কারণে পুনরায় সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে প্রকল্পের কাজে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ ইট ও বালি ব্যবহারের কথা ছিল এবং বাস্তবে কতটুকু ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের প্রাক্কলন (Estimate), ওয়ার্ক অর্ডার, পরিমাপ বই (Measurement Book), বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এবং রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ রায়ের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রকল্পের পরিমাপের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পটির কাজের মান, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। রাম প্রসাদ রায় বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার আগে সরকারি নথি, সরেজমিন পরিমাপ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। অনুসন্ধান চলমান।