ঢাকার সাভার থানাধীন কলমা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে সাভারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলমা মধ্যপাড়া ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন ফকিরবাড়ি রোডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তরুণ মারুফ হাসান (১৭) ওই বাড়ির একজন ভাড়াটিয়া। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মারুফ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী শিশুটি মারাত্মক আঘাত ও মানসিক আতঙ্কে রয়েছে।
তবে ঘটনার পর শিশুটির মায়ের এক আশঙ্কাজনক ও বিস্ময়কর বক্তব্য সামনে এসেছে। তিনি ক্ষোভ ও হতাশায় আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী মায়ের মতে, পুলিশ বা প্রচলিত আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার পাওয়া সম্ভব নয়—এমন অনাস্থা থেকেই তিনি প্রাথমিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতস্তত করছেন।
এদিকে, এই ঘটনার কথা কলমা মধ্যপাড়ায় জানাজানি হতেই এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচন্ড উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন। পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত রূপ নেওয়ার আগেই সাভার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযুক্ত মারুফ হাসানকে উদ্ধার করে রাতে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, শিশুটির বয়স ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এই ঘটনার কোনো রকম আপস গ্রহণযোগ্য নয়। তারা একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদঘাটন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কাজ করার দুঃসাহস না পায়।
আইনি ও নৈতিক সুরক্ষার খাতিরে শিশুটির পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।