গতির উন্মাদনা নাকি ভাগ্যের নির্মম পরিহাস? মুহূর্তের এক ঝড়ে চিরতরে নিভে গেল দু’টি তাজা প্রাণ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরের দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা প্রাণ হারান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তরফকামাল এলাকায় দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন, উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন মিয়া(২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপারা এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল মিয়া(২৯)।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি কেবল দুটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, ধুলিসাৎ করে দিয়েছে দুটি পরিবারের বহু স্বপ্নের সুউচ্চ মিনার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের শিয়ালগাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দু’টি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের মধ্যে প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মোটরসাইকেল দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহীরা ছিটকে পড়েন পিচঢালা শক্ত রাস্তায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুই যুবকের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে সন্তানরা সুস্থ-সবল শরীরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তাদের এমন রক্তাক্ত ও নিথর দেহ ফিরে আসবে—তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। হাসপাতালের করিডোর থেকে শুরু করে নিহতদের গ্রাম পর্যন্ত—বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বাবা-মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের আর্তনাদে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ, নির্বাক।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যান দু’টি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই অকাল মৃত্যু আবারও আমাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সড়ক সুরক্ষার অন্তহীন শূন্যতাকে। একটি অসতর্ক মুহূর্ত কীভাবে দু’টি পরিবারের চিরদিনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়, এই ঘটনা তারই এক নির্মম দলিল।