দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার মধ্যে এবার উত্তরে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টি এখন দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে সরে এসেছে। উত্তরাঞ্চলে ও উজানে বৃষ্টি বাড়ায় তিস্তার পানি আজ নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গতকাল বলেন, ‘ভারি বৃষ্টি এখন দক্ষিণ থেকে দেশের উত্তরের দিকে সরে এসেছে। এ ছাড়া উজানেও বৃষ্টি হচ্ছে।
তিস্তার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করলেও সেটা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে জানিয়ে সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে। এ ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বাড়লেও সেখানে আপাতত বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকাতেও এই মুহূর্তে তেমন কিছুর আশঙ্কা নেই।’
পাউবো জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া দুধকুমার নদ পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপত্সীমার ৮৭ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৪টি স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিতেই বৃষ্টির খবর মিলেছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে, ১০১ মিলিমিটার।
বিরামহীন বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি
রাজধানীতে গতকালের বৃষ্টিতে মালিবাগ বাজার রোড, নীলক্ষেত-নিউ মার্কেট এলাকার সড়ক, মিরপুর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকাসহ বেশ কিছু সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় গন্তব্যে যেতে ভোগান্তিতে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, কর্মজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এর আগে শনিবার রাত ৮টা থেকেই রাজধানীতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়। সাড়ে ৮টার দিকে তা রূপ নেয় প্রবল বর্ষণে। রাত ১২টার পর বৃষ্টি ধীরে ধীরে বন্ধ হলেও ভোররাতের দিকে আবার শুরু হয়। রবিবার সকালের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। সকাল থেকে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনোবা মুষলধারে বৃষ্টি হতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।
গতকালে বৃষ্টিতে মিরপুরের কোনো কোনো মহল্লায় সকাল ৯টা পর্যন্ত গলির সড়কগুলোতে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও দুপুর ১টা পর্যন্ত সেসব সড়কের পানি নামেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা এলাকার প্রায় সব কয়টি গলি, সড়ক ডুবেছিল। পয়োনিষ্কাশন নালা নির্মীয়মাণ থাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে ময়লা মিশে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া পল্লবীর নিচু এলাকা, শাহ আলী মাজারের পেছনভাগ, দারুসসালাম থানা এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১২টার দিকে মনিপুর স্কুলের সামনে মিরপুর ৬০ ফুট সড়ক ডুবে ছিল। স্থানীয় মুদি দোকানি সোলায়মান আলী বলেন, বৃষ্টি হলে এখানে প্রায় দুই দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। দুপুর দেড়টার দিকেও টোলারবাগের গলি এবং বাঙলা কলেজের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা যায়।
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চল প্লাবিত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণের কারণে গতকাল কুড়িগ্রাম জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক সড়কে এ সময় হাঁটুপানি জমতে দেখা যায়। প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা। তলিয়ে গেছে আমন, বীজতলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।