পিরোজপুর, এটিভি সংবাদ :
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নার্স ও আয়াদের হাতে ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতক শিশুটি ছিলো পুত্র সন্তান। এ ঘটনার পর লাইফ কেয়ার হসপিটাল ঘেরাও করেন নিহতের স্বজনেরা।
সোমবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১ টায় ভান্ডারিয় লাইফ কেয়ার হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে।
জানাযায়, সোমবার সকাল ৯ টায় ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী এলাকার মো. জোবায়ের মৃধার স্ত্রী হালিমা বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে লাইফ কেয়ার হসপিটাল নিয়ে আসেন তারা। সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা জরুরি সেবা দিতে থাকেন। কিন্তু ওই সময় হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ছিলেন না। তাই হাসপাতালের নার্স ও অদক্ষ আয়ারা ডেলিভারি করান। এ সময় নবজাতককে টেনে-হিঁচড়ে বের করায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এ খবর প্রসূতির স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা হাসপাতাল ঘেরাও করেন।
নবজাতকের মা হালিমা বেগম জানান, প্রসবব্যথা উঠলে আমাকে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত নার্স ও আয়া সবকিছু সামলে নেবেন বলে আমাদের জানান। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক ছিল না, সেই বিষয়টি আমাদের জানাননি। পরে নার্স ও আয়া রাই ডেলিভারি করান। ডেলিভারির পরে জানতে পারি নবজাতককে টেনে-হিঁচড়ে বের করায় আমার পুত্র সন্তানটি মারা গেছে। এ সময় আমারও মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়েছে। ডেলিবারির আধাঘন্টা পূর্বে আলট্রাসনোগ্রাম করালে সে রিপোর্টে নবজাতককে সুস্থ্য জানতে পারি। তাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে আমার সন্তান মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয় জানতে লাইফ কেয়ার হসপিটালে গেলে মালিক পক্ষ, নার্স ও আয়াদের ক্লিনিকে পাওয়া যায়নি।
ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিকুজ্জামান জানান, ঘটনা শুনে ওই ক্লিনিকের তিনজনকে জিজ্ঞাসার জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: বর্নালী দেবনাথ জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই ওই ক্লিনিকে কোন কর্তব্যরত কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি। জানতে পারি তিনজন নার্স এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।