নিজস্ব প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদ
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিছু কিছু সংগঠন আছে পৃথিবীতে, যারা মানবাধিকার নিয়ে ব্যবসা করে। তারা কাউকে কিল মারলে বিবৃতি দেয়, কাউকে ঘুষি মারলেও বিবৃতি দেয়। কিন্তু তাদের আত্মীয়-স্বজন কাউকে মেরে ফেললে কোন বিবৃতি নাই।
সোমবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মায়ের কান্না’ আয়োজিত জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও সংসদ এলাকা কবর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১২-১৪ সালে কীভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। যারা নিরীহ মানুষ, যারা রাজনীতি বোঝেনা, রাজনীতি করে না, রাজনীতির অঙ্গনে হাটে না তাদেরকে কীভাবে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছে। ক্লান্ত চালক হেলপাররা যখন গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন, তারা যেন বাইরে বের হতে না পারে সেজন্য দরজায় তালা দিয়ে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। গাড়িও পুড়ে গেছে, আর ড্রাইভার ভাইয়ের দেহ পুড়ে আঙ্গার হয়েছে। এই হচ্ছে নির্মমতা নিষ্ঠুরতা।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তখন বাইরে থেকে এগুলো নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর বিদেশ বসে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আসলে যাদের জন্ম রক্তের উপর দাঁড়িয়ে, খুনের উপর দাঁড়িয়ে, যাদের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের মতো একজন নির্মম-নিষ্ঠুর মানুষ। যিনি নাস্তা খেতে খেতে ফাঁসির আদেশে সই করতেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল এইভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০১২-১৪ সালে এই দেশে নির্মমতা হয়েছে, মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। রাজনীতির নামে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে ফেলা এমনি এমনি হয়নি। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের জন্য পৃথিবীর কোথাও এইভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপি’র প্রধান সঙ্গী। তারা ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল, বিএনপি তাদেরকে রাজনৈতিক দল আখ্যা দিয়ে বৈঠক করেছে। যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, তারা আপনারা এই মায়ের কান্নার ব্যানারে যারা কেঁদে বেড়াচ্ছে সমগ্র দেশ জুড়ে গত কয়েক বছর ধরে, আপনাদের কর্ণ প্রহরে মায়ের কান্না কেন পৌঁছে না। সুতরাং মানবাধিকার এখন কিছু কিছু রাষ্ট্রে অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার নিয়ে ব্যবসা হওয়া এটি দেশে-বিদেশে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
মায়ের কান্না সংগঠনের আহবায়ক কামরুজ্জামান মিয়া লেলিনের সভাপত্বিতে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রমুখ।