আন্তর্জাতিকক ডেস্ক, এটিভি সংবাদ
অবরুদ্ধ গাজার সব ধ্বংস করে এবার জ্বালানি ঢুকতে দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। প্রতিদিন দুই ট্রাক জ্বালানি গাজায় ঢুকতে দেবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পরে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। খবর বিবিসির।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতি দুই দিনে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
এর বেশির ভাগই ত্রাণ সহায়তার ট্রাক চলাচল এবং পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সরবরাহের জন্য জাতিসংঘকে দেওয়া হবে। বাকিটা মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য দেওয়া হবে, যা জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এই জ্বালানি সরবরাহের জন্য ইসরায়েলের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি সপ্তাহ আগেই নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দুটি কারণে সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে।
প্রথমত, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল, গাজায় জ্বালানি শেষ হয়নি। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি সরবরাহের বিনিময়ে জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্ত করতে কিছু করতে পারে কিনা, সেটি দেখতে চেয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ হুশিয়ারি দেয় যে, জ্বালানির অভাবে সংস্থাটিকে সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করতে হচ্ছে।
সংস্থাটি সর্বশেষ রিপোর্টে জানায়, গাজায় মৌলিক মানবিক কার্যক্রমের জন্য প্রতিদিন ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। তবে ইসরায়েল যতটুকু জ্বালানি প্রবেশ করতে দিতে রাজি হয়েছে, সেটি এই প্রয়োজনের অর্ধেক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)সহ আন্তর্জাতিক মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার গাজা উপত্যকায় উদ্ভূত মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও এর আগে সতর্ক করে বলেছে, গাজায় জ্বালানির অভাবে এবং বোমাবর্ষণের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মহামারী আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।
ফিলিস্তিন অঞ্চলে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিচার্ড পিপারকর্ন শুক্রবার জানিয়েছেন, গাজায় এরইমধ্যে ৭০ হাজার মানুষ তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং ৪৪ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।