আরিফুল ইসলাম, রংপুর, এটিভি সংবাদ :
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি বলেছেন, সারাদেশে নির্বাচনের ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। যারা নির্বাচনকে প্রতিহত করতে চেয়েছিল তারা পালিয়ে চলে গেছে। গুপ্ত স্থান থেকে গাড়ি পোড়ানোর ডাক দিচ্ছে বিএনপি।
বুধবার (১৩ডিসেম্বর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে রংপুর বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের উদ্যোগে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘নির্দেশনা ও মতবিনিময় সভা’য় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, সারাদেশ এখন নির্বাচন মুখী হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে বিদেশীরাও দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলেন পর্যবেক্ষক পাঠাবেন কি পাঠাবেন না। তারাও কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ সার্কভুক্ত দেশগুলো সহ ওআইসি সহ বিভিন্ন দেশ এবং জোট তারা আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় আমাদের দেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই আমাদের দলের প্রান্তিক পর্যায়ের থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড লেভেলে বার্তা দেয়া প্রয়োজন। নির্বাচনে যাতে ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ হয়। কোন প্রকার আচরণবিধি ভঙ্গ না হয় এবং নির্বাচনে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন বিরোধী শক্তি পালিয়ে গেলেও আপনারা জানেন যে চোরা গুপ্তা হামলা পরিচালনা করছে এবং চোরাগুপ্তা হামলায় মানুষ ইতোমধ্যেই আহত হয়েছে। সাড়ে তিনশরও বেশি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে ২৮ অক্টোবর থেকে এই পর্যন্ত। গতকাল রাতে ট্রেন লাইন কেটে দিয়েছে এজন্য সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। সকালবেলা পর্যন্ত একজন মৃত্যুবরণ করেছে ইতোমধ্যে আরও কিছু ঘটেছে কিনা আমি তা জানিনা বহু মানুষ আহত হয়েছে। যারা দেশ বিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী, দলবিরোধী অপশক্তি। এই অপশক্তিকে আমরা খুঁজে বের করছি যাতে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যায়। সেই নির্দেশনাও আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের দেওয়ার জন্যই আজকে এখানে মিলিত হয়েছি।
রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান দাবি করে মন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগ থেকে অনেকেই এমপি নির্বাচিত হয়েছে। এখানে আমাদের দল অত্যন্ত শক্তিশালী। যাতে আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে পারি সেই নির্দেশনাও দেয়া হবে।
জাতীয় পার্টি ও জোট হওয়ার বিষয়ে ড. হাসান মাহমুদ জানান, গত ১৫ বছর ধরে দেশের সাংবিধানিক গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের মিত্র হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে। এ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রের পক্ষে অপশক্তির বিপক্ষে কাজ করছে। মহাজোটগতভাবে তারা আমাদের সাথে ২০০৮ সালের ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১৪ তেও তাদের সাথে আমাদের সমঝোতা হয়েছিল ১৮ তেও হয়েছিল। এখন জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে।জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানাই তারা ৩শ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ হবে দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই দেখেছেন নির্বাচন কমিশন যেভাবে ইউএনও এবং ওসিদের বদলি করেছে। অতীতে কখনোই এত গণহারে ইউএনও ওসিদের বদলি করা হয়নি। কয়েকজন ডিসিকেও বদলি করা হয়েছে। এখন নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হয়েছে। সে কারণেই নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিচ্ছে সরকার সেটি প্রতিপালন করছে এবং সেটাকে এক্সিকিউট করছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছি। দল অবশ্যই দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে। অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সব নির্বাচনেই থাকে এবার একটু বেশি হয়েছে। বেশি হওয়াতে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে তাই বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বা যেকোন প্রার্থী গন্ডগোল করলে সেটির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যথাপ্রযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) সুজিত রায় নন্দী। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সমন্বয়ে উপকমিটির সদস্য ও অর্থ পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট হোসনেয়ারা লুৎফা ডালিয়া অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি সহ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।