আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটিভি সংবাদ
ফিলিস্তিনির অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে প্রায় প্রতিদিনই অনাহারে ও পুষ্টির অভাবে মারা যাচ্ছে শিশুরা। চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে সেখানকার লাখ লাখ মানুষ। খাদ্য সংকট সমাধানে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। তবে তাতেও সমাধান মিলছে না। বরং ত্রাণের নিচে পরে মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। ফলে এবার সমুদ্রপথে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গাজায় একটি অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেরাই এই অস্থায়ী বন্দর তৈরি করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেন জো বাইডেন। এই লক্ষ্যে গাজায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কোথাও জানিয়েছে তিনি।
ওয়াশিংটন, ডিসিতে সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি মেজর জেনারেল প্যাট্রিক রাইডার বলেন, ‘মার্কিন সেনাবাহিনী গাজাতে অস্থায়ী বন্দর নির্মাণের জন্য ১০০০ সেনা মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে’।
তিনি জানান, ‘বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে তবে এটি নির্মান করতে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে’।
বন্দর ব্যবস্থায় দুটি পৃথক উপাদান জড়িত, প্রথমটি হল একটি ভাসমান, অফশোর বার্জ নির্মাণ যা ত্রাণ সরবরাহ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী তখন সেখান থেকে তীরে নোঙর করা একটি ভাসমান, ১৮০০ ফুট লম্বা কজওয়েতে ত্রাণ সাহায্য নিয়ে যাবে।
রাইডার জানান, বন্দর নির্মাণের সময় কোনও মার্কিন সেনা গাজায় প্রবেশ করবে না।
তবে গাজাতে অস্থায়ী বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন অনেকেই। গাজাতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের নির্বাহী পরিচালক এভ্রিল বেনোইট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের একটি পোস্টে বলেন, ‘গাজার মানুষের জন্য যে খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সামগ্রীর খুব প্রয়োজন তা সীমান্তের ওপারে বসে আছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর দিকে তাকানোর পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রাস্তা এবং প্রবেশের পয়েন্টগুলি ব্যবহার করে অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহ পৌঁছানোর উপর জোর দেওয়া’।