মো. শামছুল হক, শেরপুর প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক চরণতলা বারোয়ারী শ্রী শ্রী কালীমাতার পূজা উৎসব ও মেলা।
এ উৎসব কত বছর আগে শুরু হয়েছে তা এখনো কেউ বলতে পারেনা। ইতিপূর্বে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসব ও মেলা চালু থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১২৬ বছর আগে।
প্রতি বছর বৈশাখের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে চরণতলা বারোয়ারী শ্রী শ্রী কালীমাতার পূজা ও উৎসব। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মেলাও।
বিকাল থেকে ঢাকের তালে তালে মুখরিত হয়ে উঠে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের প্রায় দুইশত বছর আগের পুরনো বট গাছের নিচে দুপুর থেকেই জড়ো হয় হাজারো কালীমাতার ভক্ত। আর তখন থেকেই শুরু হয় ঢাকের বাজনা।

মেলায় ছোট-বড় বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য দোলনা, পাহাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার, ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
দেশের সীমান্তবর্তী বিষ্ণপুর গ্রামের এ উৎসবটি চরণতলা মেলা নামে বহুল পরিচিত। কারণ একসময় এর পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানিতে ডুবে চরন নামে কালীমাতার এক ভক্তের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই এই স্থানটি চরণতলা নামে পরিচিত। এ নামানুসারেই চরনতলা মেলা ও কালীমাতার পূজা এবং উৎসব নামে পরিচিতি পায়। এ উৎসবে একসময় ভারত থেকে অনেক মানুষ অংশ নিতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্তসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
হিন্দু ধর্মের লোকজন তাদের মনের আশা পূরণের জন্য কালীমাতার নামে খাসি, কবুতর, মোমবাতি, স্বর্ণালংকার ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উৎসর্গ করে থাকে।