সৈকত মনি, এটিভি সংবাদ //
জেলা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গাড়ির জ্বালানি লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করার অভিযোগ উঠেছে। অধিক লাভের আশায় অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এ অবৈধ ব্যবসায়।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অরুণ কুমার ঘোষের মালিকানাধীন উপজেলার কদমতলী এলপিজি ফিলিং স্টেশনে যাওয়া একটি অটোরিকশাভর্তি ১৫ বোতল খালি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সময় হাতেনাতে স্থানীয়রা আটক করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এলপিজি এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের পার্থক্য না বুঝেই অসাধু বিক্রেতারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ক্রেতাদের ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। এতে যে কোনো সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের।
জানা যায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার কদমতলী এলাকায় স্থাপিত কদমতলী এলপিজি ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত অবৈধ রিফিলের কাজ চলে। এ ধরনের অবৈধ রিফিলের কাজ টাঙ্গাইলের মধুপুরেও রয়েছে বলে এটিভি সংবাদের অনুসন্ধানে জানা যায়। রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি গোপনে রিফিল করা হয়। নির্ধারিত বাজারমূল্য থেকে খরচ কম হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং অসচেতন ভোক্তারা ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডার রিফিল করে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন।
এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির ডিলারদের নিজ নিজ এলাকায় নজর রাখতে হবে, কেউ যেন বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এসে রিফিল করতে না পারে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আকরাম হোসেন এটিভি সংবাদকে জানান, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজিতে ৭০ শতাংশ কোপেন ও ৩০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ থাকে। আর গাড়িতে ৬০ শতাংশ কোপেন ও ৪০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ করে ব্যবহার করতে হয়। কোপেন ও ডিউটেন সংমিশ্রণের পার্থক্য থাকায় এলপিজি গ্যাস কোনোভাবেই রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় না। রিফিল সংমিশ্রণ সঠিকভাবে না হলে নড়াচড়ার কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কেবি/এটিভি/ ১৭০২/২:৩০এম