অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদ //
মসজিদের টাকা আত্মসাৎ, লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়! ভয়াবহ এ কর্মকান্ডের বিষয় জানলে গা শিহরে উঠবে। যাকে নিয়ে এ প্রতিবেদন তিনি সাধারণ মানুষ নয়, একজন সহকারী অধ্যাপক। এমন লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম হয়েছে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে।
ভূঞাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক (অব.) মনোয়ারুল ইসলাম মনোর বিরুদ্ধে।
বিষয়টি ভূয়াপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূঞাপুর থানা প্রশাসন লোকমারফত জানতে পারলেও এখন পর্যন্ত (রাত ১১:৪৫) কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ করেনি মসজিদ কমিটি। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত মনোয়ারুল ইসলাম মনো ফলদা শেহাব উদ্দীন কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক।
কমিটির লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া এবং একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সাধারণ সভা না ডাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চাপের মুখে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার গড়মিল ধরা পড়ে। এমনকি ব্যাংক হিসাবেও উক্ত অর্থের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
জানা যায় প্রায় ৪ বছর আগে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদকে সভাপতি এবং অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম মনোকে সাধারণ সম্পাদক করে মসজিদ কমিটি গঠিত হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মাসুদুল হক মাসুদ আত্মগোপনে চলে যায় আর সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান চকদার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর থেকেই মসজিদ কমিটি মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবের জন্য সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম মনোকে একাধিকবার মিটিং ডাকার কথা বললেও তিনি মিটিং ডাকতে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে কমিটির সদস্যদের চাপে বাধ্য হন মিটিং ডাকতে। সেখানে উপস্থাপিত হিসাবপত্রে ৩৪ লাখ টাকার হিসাবে গড়মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক ব্যাংক হিসাবেও এ টাকার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
সহকারী অধ্যাপক (অব.) মনোয়ারুল ইসলাম মনোর ভাষ্যমতে, মসজিদ কমিটির সভাপতি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সব দায় এখন আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। তারপরও অডিট কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা আমি মেনে নেব।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম এটিভি সংবাদকে মুঠোফোনে বলেন, উল্লেখিত বিষয়ের উপর কোন প্রকার অভিযোগ পাইনি।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুজ্জামান চকদার বলেন, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার ইসলাম মনো ভুয়া বিল ভাউচার ও নয়ছয় করে মসজিদের টাকা আত্মসাত করেছে এ ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। বর্তমানে নতুন করে পাঁচ সদস্যের অডিট কমিটি করা হয়েছে। অডিটে ৩৪ লাখ টাকার বেশি গড়মিলের সত্যতা পাওয়া যায়।
মানুষ গড়ার কারিগর একজন শিক্ষক, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ ধরনের কাজ করায় গোটা জাতিকে ভাবিয়ে তুলছে। এ ধরনের নরপিশাচ, মসজিদের অর্থ আত্মসাৎকারী, মানুষরূপী জানোয়ারদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান।
এটিভি/মসজিদ/২৪০৬/এম