অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদ //
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অন্যের অর্থ আত্মসাতের বিষয় এখন সবার মুখে মুখে! নেই কোন প্রতিকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নেই কোন সঠিক তদারকি! এতে করে দুর্নীতিবাজ ও অর্থ আত্মসাৎকারীরা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মযজ্ঞ! এমন এক ঘটনার জন্ম হয়েছে, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের পর তিনি এখন অন্যত্র বদলি হয়ে বহাল তবিয়তে আছেন।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছিলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মেঘনা উপজেলা, কুমিল্লার মো. সেতারুজ্জামান। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি ভবন নির্মাণের কথা বলে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তাকে ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজটি বাস্তবায়ন করেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী সুরাইয়া বেগম কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বড় নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর হোসেনের স্ত্রী। চলতি বছরের ১২ আগস্ট সুরাইয়া বেগম সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
গত ৭ অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, অভিযোগের তদন্ত ২০ অক্টোবর সকাল ১১টায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত সম্পন্ন হলেও ঘটনার কোনো সুষ্ঠু সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।
কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবার বক্তব্য শুনেছি। এ ব্যাপারে শিগগিরই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদন পাঠাবো।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে সুরাইয়া বেগম উল্লেখ করেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সেতারুজ্জামান একই এলাকার মৃত সামাদ মাস্টারের ছেলে। ২০১৭ সালে দাউদকান্দি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অতিরিক্তভাবে মেঘনা উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।
২০১৭ সালে মুজাফফর হোসেনের কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা নেন সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বানিয়ে দেওয়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি বা টাকা কিছুই পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত সেতারুজ্জামান নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী সুরাইয়া বেগম মিডিয়াকে বলেন, আমাদেরকে ঘর পাইয়ে দিবে বলে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন সেতারুজ্জামান। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারি কোন অর্থ বা বাড়ি পাইনি। আমি স্বামীহারা, অসহায়। ধার করে আনা টাকার জন্য মানুষ আমাকে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। পাওনা টাকা না পেয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছি। মৃত্যুর আগে শুধু একটাই চাওয়া- আমার টাকা ফেরত চাই।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সেতারুজ্জামান বর্তমানে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা)-এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগের ব্যাপারে মো. সেতারুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর হোসেনের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া ও আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। মামলাগুলো করার পর তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে।
বর্তমানে কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা)-এর সহকারী পরিচালক মো. সেতারুজ্জামান মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন, এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান। তিনি বলেন, সত্য উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে অচিরেই বেরিয়ে আসবে আসল তথ্য, উদঘাটিত হবে সত্যের।
এটিভি/অর্থ আত্মসাৎ/মেঘনা/এস