ঘুম কেবল শরীরের বিশ্রামের জন্যই নয়, এটি মস্তিষ্কের কোষ মেরামত, স্মৃতি সংহতকরণ এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখারও একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জৈবিক প্রক্রিয়া। আধুনিক জীবনে কাজের চাপ বা নানা কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব কি সত্যিই মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে? বিজ্ঞান ও গবেষণা এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।”
ঘুমের অভাব কিভাবে আয়ুষ্কালকে প্রভাবিত করতে পারে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে রাতে ৭ ঘণ্টার কম ঘুম স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরোক্ষভাবে আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।
ক. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি”
উচ্চরক্তচাপ ও প্রদাহ : ঘুমের সময় শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। অপর্যাপ্ত ঘুম এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
কার্ডিওভাসকুলার রোগ : নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা আয়ু কমানোর প্রধান কারণ।
ঘুম হলো মস্তিষ্কের ‘পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া’। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের গ্লাইমফ্যাটিক সিস্টেম বিষাক্ত পদার্থ, যেমন বিটা-অ্যামাইলয়েড প্রোটিন, অপসারণ করে। এই প্রোটিন আলজাইমার্স রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কে এই বিষাক্ত পদার্থ জমতে সাহায্য করে, যা স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
গবেষণা কী বলছে”
বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিয়মিত ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি যারা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান তাদের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে, অতিরিক্ত ঘুম (৯ ঘণ্টার বেশি) বা ঘুমের গুণগত মান খারাপ হলেও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে।
পরিমিত ঘুম দীর্ঘজীবনের চাবিকাঠি”
বিজ্ঞান স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে যে, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন ঘুম কেবল দিনের কার্যকারিতার জন্য নয়, বরং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্যও অপরিহার্য। ঘুমের অভাব সরাসরি আয়ু কমালেও এটি বিভিন্ন জীবনঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে সেই কাজটি করে। তাই দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক, এটিভি সংবাদ