চীন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে তার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছে। এ আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন পেন্টাগনের একটি খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে স্থাপিত সাইটগুলোতে সম্ভবত ১০০টির বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে এবং অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আলোচনায় কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারসহ একটি সুপার পারমাণবিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করা।’
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো, যাতে অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ বা আরো বিস্তৃত অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আলোচনায় আগ্রহের কোনো লক্ষণ আমরা এখনো দেখছি না।’
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি পরিকল্পনায় কাজ করতে পারেন।
লিন জিয়ান বলেন, ‘এর লক্ষ্য হলো নিজেদের পারমাণবিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা ব্যাহতকারী পদক্ষেপের জন্য অজুহাত খোঁজা।’
মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, চীন তার পারমাণবিক বাহিনীর আকার ও সক্ষমতা দ্রুত এবং ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়েছে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুত ছিল ছয় শতাধিকের ঘরে, যা ‘আগের বছরগুলোর তুলনায় উৎপাদনের ধীরগতিকে’ প্রতিফলিত করে।
আনুমানিক হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার ১৭৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
লিন জিয়ান বলেন, ‘চীন কঠোরভাবে ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ পারমাণবিক নীতি মেনে চলে এবং আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল অনুসরণ করে।’
তিনি যোগ করেন, ‘চীন কোনো দেশের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ায় না।
এটিভি/এসএম/বিশ্ব