আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ মাওলানা সেতু উপর দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের পণ্য নিয়ে মালবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন গুলোর অবাধ যাতায়াতে সংযোগ সড়ক ও মাওলানা ভাষানী সেতুর টেকশই এখন ঝুকির মুখে রয়েছে। সেই সাথে নতুন সড়কের রেজিং ধ্বসে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচলকারী যানবাহন দূর্ঘটনার পতিত হচ্ছে। তা ছাড়াও চিলমারী এলজিইডি কর্তৃক সংযোগ সড়কের কাজ সমাপ্ত নিয়েও চলছে ধীরগতি। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, ১৪৯০ মিটার সেতুটি দিয়ে মাঝারী যানবাহন চলাচলের জন্য গাইবান্ধা হয়ে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার মানুষের ব্যবসা বানিজ্য, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা অর্জনে তিস্তা নদীর উপর দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় । তাছাড়াও কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার মানুষের মধ্যে বহুকাল থেকেই নৌ-পথের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকালীন যে ব্যবসায়িক ও আত্মিয়তার বন্ধন গড়ে উঠে ছিল, কালের আবর্তে বিভিন্ন সময়ে সেই সম্পর্কে টানপোড়েনও দেখা দিয়ে ছিল। যোগাযোগের এই উন্নত সময়ে তাই দুই জেলার মানুষের প্রানের দাবী হিসেবেই বাস্তবায়িত হয়েছে মাওলানা ভাষানী সেতু।
বর্তমানে বিভিন্ন পাথর, বালু ও অন্যান্য মালবাহী ট্রাক, ডাম্পার ট্রাক সহ ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে সরকারী ভাবে কোন প্রকার টোল আদায়, পুলিশের তল্লাশী এবং বাধা না থাকায় এসব যানবাহন দিন-রাত নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। তথ্যমতে, সেতুটি ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিকটন ওজন ধারনের জন্য উপযুক্ত হলেও এখন যানবাহন গুলোতে প্রায় দ্বিগুন পরিমান মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর ও পাটগ্রাম থেকে আসা পাথর ও বালু পরিবহনকারী ট্রাক এবং ডাম্পার ট্রাক গুলোতে ৪০ থেকে ৬৫ মেট্রিকটন পর্যন্ত বহন করা হয়, যা গ্রামীণ সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি । ফলে, সেতুর সংযোগ রাস্তাটির বিভিন্ন ভাবে ক্ষতি সাধিত হওয়ায় সংযোগ সড়কের স্থায়ীত্ব এখন হুমকিতে রয়েছে। সেই সাথে মাওলানা ভাসানী সেতুতেও একই ধারন ক্ষমতা থাকায় অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচলকারী ভারী যানবাহন গুলোর দাপটে সেতুর স্থায়ীত্ব ও টেকশই অবস্থা অত্যন্ত ঝুকির মুখে পড়েছে। অপর দিকে সেতুর দুই পার্শ্বে পণ্যবাহী যানবাহনের ওজন পরিমাপের জন্য কোন ওয়েট ক্যানেল ও যানবাহন তল্লাশীর জন্য পুলিশ চৌকি না থাকায় এই গ্রামীন সড়কের সেতু দিয়ে অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন চলাচল দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ চৌকি না থাকায় এসব অতিরিক্ত মালামালের মাঝে পরিবহনকারী যানবাহনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অবৈধ মালামাল পাচার করার নিরাপদ রুট গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জুয়েল জানান, মাওলানা ভাসানী সেতুর চিলমারীর সংযোগ সড়কটি গ্রামীণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত, যার ধারন ক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ মেট্রিকটন মাত্র। অথচ যে সব বালু ও পাথরবাহী ট্রাক ও ডাম্পার চলছে সে গুলোতে সড়কের ধারন ক্ষমতার চেয়েও তিনগুন মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ সড়কটিসহ সেতুর স্থায়ীত্ব এখন ঝুকিতে রয়েছে। আগামী দিনে এসব অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন চলাচলে বাধ্যবাধকতা না থাকলে সেতু সহ গ্রামীণ সড়কটির স্থায়ীত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে।