শামিমুর রহমান জিসান বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি //
পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন কুরুকপাতা ইউনিয়নের সিন্ধুমুখ পাড়া, ইন্দুমুখ পাড়া ও বড় আগলা পাড়ায় বসবাসরত মোট ১০০টি পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে এই মানবিক সহায়তা স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে।
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জোন কমান্ডার বলেন,
“পাহাড়ি এলাকায় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আলীকদম সেনা জোন সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ববোধেরই অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,
“পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা যে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এলাকার অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে এবং যুবসমাজকে পড়াশোনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা অনুযায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“শিক্ষাই পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মর্যাদার সাথে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে।”
এ সময় তিনি আলীকদমে অবস্থিত মূরং কমপ্লেক্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কমপ্লেক্সে সুবিধাবঞ্চিত মূরং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক থাকা, খাওয়া ও শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে মূরং সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যা তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জোন কমান্ডার যুবসমাজকে মাদক ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের নিরাপত্তা ও জনকল্যাণে অটলভাবে পাশে থাকবে।