আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা বান্দরবান এখন সরগরম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। চারজন প্রার্থীর টানা প্রচারণা, জনসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদ থেকে শুরু করে পৌর এলাকার ব্যস্ত সড়কগুলো।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও গ্রামভিত্তিক গণসংযোগে সরব প্রার্থীদের সমর্থকরা। পাড়া-মহল্লায় এমনকি শিশু-কিশোরদের কণ্ঠেও ভেসে উঠছে বিভিন্ন নির্বাচনী স্লোগান, যা পুরো জেলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
জেলার সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়নের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের হাওয়া। পাহাড়ি ও বাঙালিসহ মোট ১২টি নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস থাকা এই জেলায় নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে নতুন প্রত্যাশা ও বাড়তি আগ্রহ। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে উন্নয়ন ও সমতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
প্রচারকালে প্রার্থীরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার জনগণ যুগের পর যুগ শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তারা আশ্বাস দিচ্ছেন—এই বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলার অঙ্গীকারও তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের মতে, “শান্তি ছাড়া পাহাড়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়”—এই দর্শনকে সামনে রেখেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলছেন প্রার্থীরা।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান–৩০০ নং আসনে চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন।
প্রার্থীরা দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম, সীমান্তবর্তী এলাকা ও প্রত্যন্ত ইউনিয়নে গিয়ে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। স্থানীয় সমস্যা শুনে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন। অনেক এলাকায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান–৩০০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি।
সব মিলিয়ে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান এখন নির্বাচনী উত্তাপে টগবগ করছে। কে হবেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি—সে সিদ্ধান্ত দিতে অপেক্ষায় রয়েছে পাহাড়ের ভোটাররা।