খুলনা থেকে বাসিত চৌধুরী, এটিভি সংবাদ //
সারদেশের আকাশ যখন ঈদের খুশির চাঁদ দেখে উৎসবে মেতেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে খুলনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বারান্দায় বইছে এক বুকফাটা আর্তনাদ। চিকিৎসার বকেয়া ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৭ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মৃত জামাল মোল্লার মরদেহ আটকে রাখার অমানবিক অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যখন প্রতিটি ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে, তখন দুই অবুঝ শিশু তাদের বাবার নিথর দেহটি শেষবারের মতো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আকুতিতে হাসপাতালের গেটে ডুকরে কাঁদছে। তাদের এই আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে উৎসবের রাত।
নিহত জামাল মোল্লার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ১,৮৯,৪৮৭ টাকার বিশাল এক বিল ধরিয়ে দিয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারটি ভিটেমাটি লিজ ও ধারদেনা করে এর আগে ৬৬,০০০ টাকা জমা দিলেও বাকি ১,২৩,৪৮৭ টাকা তাৎক্ষণিক জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এক চুল পরিমাণ ছাড় দিতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; টাকা না পাওয়ায় মরদেহ হস্তান্তরে সাফ মানা করে দেয় তারা। উৎসবের এই বিশেষ রাতেও হাসপাতালের এমন কঠোর ব্যবসায়িক মনোভাব ও মানবিকতার চরম অবক্ষয় দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন উপস্থিত সবাই।
হাসপাতালের দেওয়া বিলের বিস্তারিত বিবরণীতে দেখা যায়, জামাল মোল্লার চিকিৎসায় ওষুধের বিল ধরা হয়েছে ৭৬,০৩৭ টাকা, বেড ও কিচেন চার্জ ৫২,৫০০ টাকা, চিকিৎসকের ফি ৪৪,০৫৭ টাকা, ভেন্টিলেটর চার্জ ১০,৫০০ টাকা এবং গ্লাভসসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ ৭,১৩৯ টাকা। এই বিপুল অর্থের বোঝা বইবার ক্ষমতা নেই নিঃস্ব পরিবারটির। হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই শিশুর করুণ প্রশ্ন— “সবাই ঈদে বাড়ি যাচ্ছে, আমরা কি বাবাকে নিয়ে বাড়ি যেতে পারব না?”— এখন মানুষের বিবেককে দংশন করছে।
স্বজনরা জানান, “আমরা সাধ্যমতো ৬৬ হাজার টাকা দিয়েছি, আর এক টাকাও দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ঈদের দিনেও কি বাবার লাশটা দাফন করতে পারব না? হাসপাতাল কি একটুও দয়া দেখাবে না?” ঘটনার পর থেকে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম বিপদে জামাল মোল্লার দুই এতিম শিশুর পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহটি ছাড়িয়ে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করতে বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরাসরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ: বিকাশ (পার্সোনাল): 01741-915760।