থানচির রেমাক্রিতে পর্যটক ফেলে পালিয়েছে ট্যুর গ্রুপ, আলীকদম ইউএনওর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন ৪৭ জন
ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক’ এবং ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামের দুটি ট্রাভেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ঘুরতে আসা একটি পর্যটক দল চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পর্যটকদের দাবি, ভ্রমণের এক পর্যায়ে তাদের থানচির দুর্গম রেমাক্রি এলাকায় ফেলে রেখে ট্রাভে ল গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা চলে যান। ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ, উল্লিখিত দুটি ট্রাভেল গ্রুপ তাদের থানচির রেমাক্রিতে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে বিপাকে পড়া পর্যটকরা স্থানীয় জনসাধারণ ও থানচি উপজেলার ট্যুর গাইডদের সহযোগিতায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় তিন্দু সড়কের মাথায় উপস্থিত হন।
থানচি উপজেলার ট্যুর গাইড সেলিম বলেন, দুটি টুর গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে থানচি থেকে বুক করেন। পরে তারা তাকে এবং ৪৭ জন পর্যটককে রেমাক্রি এলাকায় রেখে পালিয়ে যান। এতে পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়েন।
এক পর্যায়ে তারা আলীকদম উপজেলার টুরিস্ট পরিবহনের সহায়তায় আলীকদম উপজেলায় পৌঁছান। বিষয়টি আলীকদমে কর্মরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের কাছে পৌঁছালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনজুর আলম বলেন, হয়রানির শিকার পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিরাপদে ঢাকায় ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।
পর্যটক মোঃ মাহামুদুল হাসান জানান, ট্রাভেল গ্রুপটি প্রতিটি পর্যটকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা করে তিন দিন চার রাতের একটি প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের বান্দরবানের থানচিতে নিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ ঘটনায় সহায়তা পাওয়ায় পর্যটকরা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ, ট্যুর গাইড এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।