করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই বিশ্ব স্বাস্থ্যের সামনে নতুন প্রশ্নচিহ্ন হয়ে হাজির হয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ভাইরাসটি নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আগাম প্রস্তুতি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বলতে সাধারণত ‘এ’ ও ‘বি’ ধরনের ভাইরাসকেই বোঝায়। এই দুই ধরনের ভাইরাসই প্রতি বছর মৌসুমি ফ্লুর পেছনে দায়ী থাকে। সোয়াইন ফ্লু এবং বার্ড ফ্লুও ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিবারের সদস্য। সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসের তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অনেক বেশি সংক্রামক এবং এটি অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজের গঠন বদলে ফেলতে পারে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘সাবক্ল্যাড কে’ নামে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেকটি নতুন রূপ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি। ভাইরাসটি নিয়ে এখন কাজ করছে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিসিপির গবেষক দল।
গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মানুষের শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে এবং এটি কতটা দ্রুত ছড়াতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যেহেতু ভাইরাসটি নতুন, তাই এর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নতুন রূপগুলোকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্কতা জরুরি। নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং জ্বর, সর্দি, কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি-এর গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।