উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা এখন কৃষি বিপ্লবের পথে। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের হতাশা ও দুশ্চিন্তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিস এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সঠিক সময়ে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি, নিয়মিত পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মাঝে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
জানা যায়, চলতি ইরিবোরো মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছে কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলছেন।
কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি লাভজনক আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষাণ-কৃষাণীদের নিয়ে নিয়মিত পার্টনার কংগ্রেস ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে কৃষি বিভাগ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এই উপজেলার সফল চাষিরা জানান, পূর্বে কোনো ফসলে রোগবালাই বা সমস্যা দেখা দিলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়তেন। কিন্তু বর্তমানে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ফোন পেলেই মাঠে ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমেছে এবং লোকসানের ভয় কেটেছে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অপূর্ব ভট্টাচার্য্য জানান, সরকারের কৃষি বান্ধব নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কৃষকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের এই ধারাবাহিক ইতিবাচক ভূমিকা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।