কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি। এটিভি সংবাদ //
যশোরের কেশবপুরে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান রুমির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তার বাড়ি থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় চিংড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ করা হয়। রুমি থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
এরপর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে পাশের চিংড়া গ্রামের আবদুর রশিদের (৪০) বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে আশরাফুজ্জামানসহ একদল কিশোর ও যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে মোটরসাইকেলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।
এএসআই নজরুল ইসলাম তাদের জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করা হবে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।
পরে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আবদুর রশিদ নামে একজনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, রুমির মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি ভোরে জানতে পারি। পরে সকালে স্থানীয় এক থেকে দেড়শ মানুষ বাজারে এসে আমার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে আমি থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। তিনি ফোর্স পাঠানোর কথা বলার পরপরই সেখানে থাকা জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে চিংড়া সরদারপাড়ার আবদুর রশিদ জানান, মোটরসাইকেলটি তার হেফাজতে রয়েছে। তখন লোকজন চড়াও হয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়।
কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, একটি পক্ষ চোরপক্ষকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে বিচার করতে চাইছিল। পুলিশ বাধা দিলে এক অফিসারকে ধাক্কাধাক্কি ও থাপ্পড় মারা হয়।
তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।