এস এম জামান। সম্পাদক, এটিভি সংবাদ /
ইসলাম ধর্মে শুকরের মাংস খাওয়া বা এর যেকোনো অংশ ব্যবহার করা কঠোরভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শুকরের মাংস হারাম হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো;
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মেনে চলা। আল-কোরআনে সরাসরি শুকরের মাংস হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সূরা আল-বাকারার ১৭৩ নম্বর আয়াতে, সূরা আল-মায়েমার ৩ নম্বর আয়াতে এবং সূরা আল-আনআমের ১৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন;
যেহেতু এটি আল্লাহর সরাসরি বিধান, তাই একজন মুমিনের জন্য এর কারণ জানা বা না জানার ওপর বিশ্বাস নির্ভর করে না, বরং আল্লাহর নির্দেশ বলেই এটি বর্জন করা আবশ্যক। তবে এর পেছনে অনেক শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত কারণও রয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে যে শুকরের মাংস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর প্রধান কারণগুলো হলো;
শুকরের মাংসে ট্রিকিনেলোসিভ (Trichinosis) নামক বিপজ্জনক কৃমি ও তার লার্ভা থাকে। এই পরজীবীগুলো অত্যন্ত শক্তপোক্ত এবং সাধারণ রান্নায় বা তাপে পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। এগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে পেশি, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
শুকরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে, যা মানবদেহের রক্তনালী সংকুচিত করে দেয়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ (Heart Attack) এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শুকর অত্যন্ত অপবিত্র এবং সর্বভুক প্রাণী। এটি মলমূত্র, পচা-গলা আবর্জনা এবং যেকোনো ময়লা জিনিস খেয়ে থাকে। ফলে এর দেহে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, টক্সিন (বিষাক্ত উপাদান) এবং রোগজীবাণু জমা হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
শুকরের মাংসের ফ্যাট বা চর্বি মানুষের শরীর সহজে হজম করতে পারে না, যা যকৃত (Liver) এবং পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ইসলাম ধর্ম মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক কল্যাণ বা সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটে এবং নৈতিক অপবিত্রতা তৈরি হয়—এমন সবকিছুই ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুকরের ক্ষেত্রেও এর ক্ষতিকর দিক এবং আল্লাহর নিখুঁত বিধানের কারণে এটি মানবজাতির জন্য হারাম করা হয়েছে।