ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দি সানরাইজ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, মেধা ও প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টার জনাব মো. আনারুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও উপজেলা প্রেসক্লাব রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও। সভাপতি এবং দৈনিক বাংলা কণ্ঠের প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব মো. মাসুদ রানা। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, মোঃ খায়রুল ইসলাম, রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি সানরাইজ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রিন্সিপাল জনাব মোস্তফা কামাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জনাব প্রশান্ত বসাক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং কৃতি শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের মূলপর্বে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এমন অর্জনে সন্তোষ ও গর্ব প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তারা আরও বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং অন্য শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল ও কৃতিত্ব অর্জনে উৎসাহিত হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আরও নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুরস্কার ও সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে কৃতি শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য, আদর্শ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।