ইমাম হোসেন আকাশ, এটিভি সংবাদ, ঢাকা /
ঢাকা ও বাংলা সিনেমার হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং নগরবাসীর সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ চলচ্চিত্র উৎসব ও গুণীজন সম্মাননা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের পর্দা ওঠে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনের প্রথম দিনে প্রদর্শিত হয় আবদুল জব্বার খান পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। ‘পর্দায় গল্প, উৎসবে ঢাকা’ এবং ‘চলচ্চিত্রে গল্প, সংস্কৃতিতে প্রাণ—হৃদয়ে ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আনন্দঘন মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন দেশীয় চলচ্চিত্রের একঝাঁক তারকা ও গুণীজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান, নূতন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, রফিকুল আলম মজনু, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন-সহ আরও অনেক কলাকুশলী। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের বিশেষ পরিচালক, শিল্পী এবং গুণীজনদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আয়োজক ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, এই উৎসব আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো শহরবাসীর মনে ঢাকার প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা তৈরি করা। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী ঢাকাকে একটি সুন্দর শহরে রূপান্তরিত করতে হলে সুন্দর মনের মানুষের প্রয়োজন। সেই কারণেই আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হৃদয়ে ঢাকার প্রতি ভালোবাসা জন্মানোর চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন যে, তরুণ প্রজন্মকে বেশি করে এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার পাশাপাশি ভালো চলচ্চিত্রকার, নায়ক-নায়িকা ও লেখক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, গুণীজনদের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও আশ্বাস দেওয়া হয়।

এ সময় অনুষ্ঠানে নায়িকা নূতন আক্ষেপ করে বলেন, “ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে আমি বীরাঙ্গনা চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু এই চলচ্চিত্রের জন্য আমি জাতীয় পুরস্কার পাইনি। প্রতিবার জাতীয় পুরস্কার তালিকায় আমার নাম দেওয়া হলেও বারবার কেটে দেওয়া হতো”।
২২ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে কালজয়ী বাংলা সিনেমা প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনী তালিকায় রয়েছে-
২৩ আগস্ট: নবাব সিরাজউদ্দৌলা (বিকেল ৩টা) ও ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন (সন্ধ্যা ৬টা)
২৪ আগস্ট: জীবন থেকে নেয়া (বিকেল ৩টা) ও লাঠিয়াল (সন্ধ্যা ৬টা)
২৫ আগস্ট: অশিক্ষিত (বিকেল ৩টা) ও রংবাজ (সন্ধ্যা ৬টা)
২৬ আগস্ট: সবুজ সাথী (বিকেল ৩টা) ও নাচের পুতুল (সন্ধ্যা ৬টা)
২৭ আগস্ট: দুর্দান্ত (বিকেল ৩টা) ও দহন (সন্ধ্যা ৬টা)
২৮ আগস্ট: দোস্ত দুশমন (বিকেল ৩টা) ও বধূ বিদায় (সন্ধ্যা ৬টা)
আমার শহর, আমার দায়িত্ব, আমি বদলাই, ঢাকা বদলাবে’—এই বার্তাকে ধারণ করে আয়োজিত এই চলচ্চিত্র উৎসবটি ঢাকাবাসীর জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক উপহার, যা সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।