কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়ায়
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও গ্রামীণ জনপদকে সবুজে সাজানোর লক্ষ্যে শতাধিক ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সবুর মোল্লার নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। গ্রামের কাঁচা রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। শুধু চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ না করে রোপণ করা গাছগুলোকে গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের খুঁটি ও খাঁচা দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, গ্রামীণ এলাকায় সবুজ বেষ্টনী তৈরি এবং রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব গাছ বড় হলে স্থানীয় মানুষ ছায়া পাওয়ার পাশাপাশি ফল ও ঔষধি গাছের উপকারও ভোগ করতে পারবেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সবুর মোল্লা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তার দুই পাশে ও পতিত জায়গায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজে ঘেরা একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মডেল ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করাও অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রোপণ করা প্রতিটি গাছকে বাঁচিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তার দুই পাশে গাছের চারা রোপণের ফলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে পরিবেশও হবে আরও নির্মল ও শীতল। গাছগুলো বড় হলে পথচারীদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা হবে এবং ভবিষ্যতে এলাকাটি একটি সবুজ সড়কে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এর আগেও মাহবুবুর রহমান সবুর মোল্লার উদ্যোগে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর, বেগুনবাড়িয়া, চরদিয়াড় ও ঘোষপাড়া এলাকার প্রধান সড়কের পাশে শতাধিক চারা রোপণ করা হয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে এমন সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় স্থানীয় সুশীল সমাজ, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।