আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটিভি সংবাদ
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রাকালে একটি গোষ্ঠী তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত দুইজন গ্রাম চৌকিদার নিহত হয়েছে। এছাড়া সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন মতে, সোমবার (৩১ জুলাই) গুরুগ্রাম–সংলগ্ন নুহ এলাকায় একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষ শুরু হয়।
‘ব্রিজ মন্ডল জালাভিষেক যাত্রা’ নামে ওই শোভাযাত্রা বের করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। শোভাযাত্রাটি গুরুগ্রাম–আলওয়ার জাতীয় মহাসড়কে পৌঁছলে একদল তরুণ শোভাযাত্রা থামাতে পাথর ছুড়তে শুরু করে।
এক পক্ষ অন্য পক্ষের সমর্থকদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠলে উত্তেজিত তরুণ দল বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারগ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
সংঘর্ষের মধ্যেই পুলিশ প্রায় ২ হাজার ৫০০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে। তাদের সবাই ঘটনাস্থলের কাছেই একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষ গুরুগ্রাম-সোহনা মহাসড়কে বিস্তৃত হয়। এখানে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।
এরই মধ্যে সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তাজুড়ে দাউ দাউ করে জ্বলছে বেশ কয়েকটি গাড়ি। কালো ধোয়া কুণ্ডলি পাকিয়ে উঠে যাচ্ছে আকাশে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ডাকা হয়েছে। এছাড়া গুরুগ্রামে ইন্টারনেটের সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বড় ধরনের যেকোনো জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বজরং দলের এক কর্মীর আপত্তিকর একটি ভিডিও পোস্টকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সূত্র বলছে, বজরং দলের সদস্য মনু মনেশ্বর ও তার সহযোগীরা কয়েক দিন আগে ভিডিওটি পোস্ট করে এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে, যাত্রার সময় তিনি মেবাটে থাকবেন। অনেকেই দাবি করেন, যাত্রার সময় তাদের সেখানে দেখা গেছে।
এটিভি/এস