নিউজ ডেস্ক, এটিভি সংবাদ
শিরাপথে স্যালাইন নেওয়া কিডনি রোগী, হৃদ্রোগীসহ অন্য অনেকের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দুর্বলতার চিকিৎসা হিসেবে স্যালাইন খাওয়া বা শিরাপথে স্যালাইন নেওয়ার ধারণাটি একেবারেই ভিত্তিহীন।
স্যালাইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপদ্ধতি, হোক সেটা মুখে খাওয়ার বা শিরাপথে দেওয়ার স্যালাইন। ডায়রিয়া, অতিরিক্ত বমি বা যেকোনো পানিশূন্যতা রোগেই দেওয়া হয় ওরস্যালাইন বা মুখে খাওয়ার স্যালাইন। ওরস্যালাইন মূলত শরীরে লবণ এবং পানির ঘাটতি পূরণের জন্যই দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অনেকেই আছেন একটু দুর্বল লাগলে ভাবেন একটা স্যালাইন নিলে ভালো হতো। বা এক–দুই গ্লাস স্যালাইন খেয়ে নিলেই হয়। আসলে এটি ভুল ধারণা।
শরীর দুর্বল লাগার নানা কারণ থাকতে পারে। যদি সাম্প্রতিক সময় ডায়রিয়া, কলেরা, প্রচুর বমি বা গরমে প্রচুর ঘাম হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ওরস্যালাইন পান করা যায়। কারণ, এসব ক্ষেত্রে শরীর থেকে প্রচুর পানি এবং লবণ বের হয়ে যায় এবং সেগুলো পূরণ করা জরুরি। শরীরে লবণের ঘাটতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাণনাশের কারণও বটে, বিশেষত শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এখন বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ‘ওরস্যালাইন-এন’–এর যে প্যাকেট পাওয়া যায়, তাতে পর্যাপ্ত লবণের উপাদানের (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) পাশাপাশি গ্লুকোজ থাকে মাত্র ৬.৭৫ গ্রাম বা ২৭ কিলোক্যালরি। কিন্তু একজন আদর্শ ওজনের মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা প্রায় ৫০০ গ্রাম গ্লুকোজ বা ২০০০-২২০০ কিলোক্যালরি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন শুধু ওরস্যালাইন দিয়ে শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।