হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি //
:রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি কার্যালয়ের মর্যাদা লঙ্ঘনের একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ভূমি সংক্রান্ত শুনানিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাকের কার্যালয়ে হাঙ্গামা, মারমুখি আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে তানোর থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, তানোর উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়মিত ভূমি সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন সময়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ব্যক্তি একটি অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য দাবি নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাকের সঙ্গে উচ্চস্বরে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তদের মধ্যে জমিলা (৩৫) নামের এক নারী হঠাৎ করে এসিল্যান্ডের টেবিলে জোরে জোরে থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। এরপর তিনজন মিলে কর্মকর্তার প্রতি হুমকির সুরে কথা বলেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ঘটনার সময় ভূমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের প্রতিও মারমুখি আচরণ করেন। শুনানিকক্ষে তখন অফিস স্টাফদের পাশাপাশি সেবাপ্রার্থী মুনসুর নামের একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তানোর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. জমিলা (৩৫) — স্বামী ওহাব আলী, গ্রাম অমৃতপুর, কলমা ইউনিয়ন
২. হাফিজুর রহমান (৪৫) — পিতা ইউসুফ আলী, গ্রাম হরিশপুর, বাঁধাইড় ইউনিয়ন
৩. আব্দুল আওয়াল — হাফিজুর রহমানের ভাই, একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নম্বর–১৭।
মামলায় দণ্ডবিধির—১৮৬ ধারা (সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা প্রদান),৩৫৩ ধারা (সরকারি কর্মকর্তাকে ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন),৩৩২ ধারা (সরকারি কর্মকর্তার ওপর আঘাতের চেষ্টা)
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“সরকারি অফিসে এ ধরনের হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
মামলার বাদী সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বলেন,আসামিরা অন্যায় দাবি নিয়ে সরকারি শুনানিতে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও তারা মারধরের হুমকি দিয়েছেন। এসিল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন,
“যারা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
সরকারি কার্যালয়ে এমন আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সাহস না পায়।