চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আঞ্চলিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস)। পরিবেশ সচেতনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিশ্চিত করতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের চারটি বিতর্ক সংগঠন— এনএসটিইউডিএস (নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), সিওউডিএস (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়), সিইউডিএস এবং চুয়েটডিএস অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়, বরং আগামীর সবুজ পৃথিবী গড়ার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। বর্তমান পরিবেশ সংকটের জন্য মানুষের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের নদ-নদী ও বনভূমি আজ হুমকির মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণের পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, যা মেধাবী বিতার্কিকদের যুক্তির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। একটি প্রাণবন্ত ও মুখরিত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আয়োজকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সিইউডিএস-এর মডারেটর ও আইন বিভাগের প্রফেসর এ.বি.এম আবু নোমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জনাব জমির উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা আকতার এবং চবি ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এসোসিয়েট মডারেটর নওরিন মনির প্রমা। বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তি ও তথ্যের লড়াইয়ে দুটি প্রাথমিক রাউন্ড শেষে জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি শেষ হয়। বিতার্কিকরা পরিবেশগত সংকট উত্তরণে কার্যকর করণীয় ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরেন। আয়োজক পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তুলবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।