হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে রাজশাহীর তানোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্মরণকালের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে তানোর পৌর সদর ডাকবাংলো মাঠ থেকে গণমিছিল বের হয়ে গোল্লাপাড়া হলের মোড় প্রদক্ষিণ করে থানা মোড়ে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলীর সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন
সাবেক জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম,জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ,তানোর পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মুকসেদ আলীসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন,“আসমান-জমিনের মালিক আল্লাহ তায়ালা। জমিন যার, আইন চলবে তার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দল ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে, কিন্তু দেশ ও জাতির ভাগ্যের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আজ দেশে নির্বাচন হচ্ছে এবং আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই গণঅভ্যুত্থানকে ভুলে গেলে চলবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও দেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বক্তারা আরও বলেন,
চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও নৈরাজ্যমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়তে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় সাধারণ ভোটারদের যারা হুমকি দিচ্ছেন, তাদের সতর্ক করে বলা হয়—ফ্যাসিবাদীরাই এ ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করত এবং দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
“ভোটাররা যাকে পছন্দ করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। জামায়াত জোট মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত ও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে।
যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক মন্দা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০–১৫ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। জমি দখল ও গভীর নলকূপ দখলের মতো অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।এ জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
আমরা ধর্ম ব্যবসা করি না, আমরা ধর্ম লালন ও পালন করি। আমাদের জীবন পরিচালিত হয় ধর্মের ভিত্তিতে। কিন্তু যারা ভোট এলেই মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি পরে এবং আজান হলেই মসজিদে দৌড়ায়, ভোটের সময় হঠাৎ মানবিক ও ইসলামি নেতা সেজে ওঠে—তারাই প্রকৃত অর্থে বড় ধর্ম ব্যবসায়ী।এ ধরনের দ্বিমুখী আচরণকারী রাজনীতিকদের বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন,ভোটের সময় এক রকম আচরণ আর নির্বাচনের পর মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে জড়িয়ে পড়া নেতাদের দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,
তানোর উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়নের গাল্লাগ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুই সমর্থককে ধানের শীষের লোকজন বেধড়ক মারধর করেছে। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, বড় দল দাবি করেও কেন মারপিট ও ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেন,
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, সবাই বিজয়ী হবে না। কিন্তু কেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের বিষয়ে অনেকেই কথা বলছেন না—সে প্রশ্নও তোলেন বক্তারা।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান
বক্তারা বলেন,গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুই ধরনের ভোট রয়েছে। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা না বলতে পারলেও অন্তত ‘না’-এর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। দেশের মানুষ এখন বুঝে গেছে—কে ক্ষমতায় গেলে কার ভাগ্যের উন্নয়ন হবে।
সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে রোববার দুপুরের পর থেকেই সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ৮১টি ওয়ার্ড থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা ডাকবাংলো মাঠে জড়ো হতে থাকেন। আসরের নামাজের পর শুরু হয় মূল গণমিছিল।মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ এবং অন্য ধর্মের ভোটারদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। পুরো এলাকা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেছে।