নিজস্ব প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদরোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় হামলাকারী ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হামলাকারী চারজনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন- আবদুল মালিক, সাবেল আহমদ, জুবেল আহমদ ও জুয়েল আহমদ। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আজবাহার আলী বলেন, হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনারি সমস্যা নিয়ে গত রবিবার এক রোগী ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙচুর করে গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, ইজিসি মেশিনসহ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন।
তারা অনেক ওষুধ বিনষ্ট করার পাশাপাশি সেখানে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হুমকিও দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও ৪ জনকে আটক করে।এ ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ শাখা ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চাই’ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। রাত ৮টার দিকে পরিষদের সভাপতি মো. রাকিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোগীর স্বজন নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাণ্ডব চালায়।
তারা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং শারীরিক হেনস্তা করার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া তাঁরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কক্ষ ও নার্সেস স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কোনো সুস্থ কর্মপরিবেশ নেই এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই।হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবেন।
এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মো. রাকিব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কর্মবিরতি চলবে। আমরা অবস্থান কর্মসূচি করব। এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বসে আমরা পরবর্তীতে কি করব সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে যে দাবি ছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার- এটি করলে এখন বাকিটা তো আইনের বিষয়। দ্রুতবিচারে কিছু করা যায় কিনা-তাৎক্ষণিক ঠিক করলে আমরা কর্মবিরতি স্থগিত করব।’
ধর্মঘট ডাকা ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া।