প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব হিজাব দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশে আজ ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি দিবস নয়; এটি সেইসব নারীর আত্মঘোষণা, যারা তাদের বিশ্বাসকে লুকিয়ে রাখতে চায় না, আবার জোর করেও চাপিয়ে দিতে চায় না। হিজাব এখানে নিছক একটি কাপড় নয়; এটি একটি পরিচয়, অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।
ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো— মুমিন নারীদের সম্মান ও পরিচয় রক্ষা করা, যেন তারা অবমাননা ও কটূক্তির শিকার না হন।
বিশ্ব হিজাব দিবসের সূচনা হয় ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের বাসিন্দা নাজমা খান এই দিবসের প্রবর্তন করেন। স্কুলজীবনে হিজাব পরার কারণে তিনি যে বৈষম্য ও বিদ্বেষের শিকার হন; বিশেষত ২০০১ সালের ৯/১১–এর পর যেই তিক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির নারীরা অন্তত এক দিন হিজাব পরিধান করে মুসলিম নারীদের বাস্তবতা অনুভব করবেন এবং ধর্মীয় সহনশীলতা বাড়বে।
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, ‘হিজাব পর্দা শুধু দৃষ্টিকে সংযত করে না; এটি হৃদয়কেও সংযত করে।’ (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ২/৫৩)। তাই বলা যায় “বিশ্ব হিজাব দিবস” কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি মানবিক আবেদনও। এটি মনে করিয়ে দেয়—নারীর স্বাধীনতা মানে তাকে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী বাঁচার সুযোগ দেওয়া। কেউ হিজাব বেছে নিলে, সেটিও তার অধিকার; আর সেই অধিকারকে সম্মান করাই সভ্য সমাজের পরিচয়।
হিজাব আজ এক নীরব প্রতিবাদ—বিদ্বেষের বিরুদ্ধে, ভুল ধারণার বিরুদ্ধে, এবং নারীর ওপর আরোপিত একমাত্রিক স্বাধীনতার ভুল সংজ্ঞার বিরুদ্ধে। বিশ্ব হিজাব দিবস সেই প্রতিবাদেরই নাম।