জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গরিব-অসহায় মানুষ ন্যায়বিচার পায় না। বিচার সব সময় প্রভাবশালীদের পক্ষে থাকে। আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতিও যদি এই অপরাধ করে তাহলে একই আইনে বিচার হবে।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের।
হবিগঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি হবিগঞ্জও সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত জেলা উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ১২ তারিখ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিবেন প্রত্যাশা করি। যে এলাকা যত বেশি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে, আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিলে সেই এলাকা থেকেই উন্নয়নের ধারা শুরু করব।
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিব। আমরা গ্রামকেও শিল্পাঞ্চল বানাব। সেখানে হবে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা। সেখানকার শিক্ষিতরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের অবস্থা পাল্টে দিবে। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও, আমরা এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিব।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব দিলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। হবিগঞ্জে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
উক্ত সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন— সিলেট বিভাগীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, হবিগঞ্জ-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের, হবিগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমানসহ জামায়াতের নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীরা।