আলীকদম উপজেলা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সহ পাঁচ ইটভাটার ৮ মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ আদালত। আলীকদম উপজেলার এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ মোট আটজন ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের পেশকার মাহবুব কাদের। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলাগুলোর শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অন্তত ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ইটভাটা সচল রয়েছে। অতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযানে কিছু ভাটাকে জরিমানা এবং কয়েকটি স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও কার্যত এসব অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এবার দায়ের করা ৮টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলায় মোট ৮ জন মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
থানচি উপজেলার এমএসবি ইটভাটার মালিক আনিসুর রহমান সুজন (মামলা নং-০৩/২৬)
আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক সামছুদ্দিন ও এখলাছুর রহমান (মামলা নং-০৫/২৬)
একই উপজেলার ইউবিএম ইটভাটার মালিক জামাল উদ্দিন (মামলা নং-০৪/২৬)
এফবিএম ইটভাটার মালিক শওকত তালুকদার (মামলা নং-০২/২৬)
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ (মামলা নং-০১/২৬)
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় ধারাবাহিক অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে এসব ইটভাটা থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একাধিক ভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বনভূমি উজাড় এবং কৃষিজমি ধ্বংসের মাধ্যমে ইটভাটাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বায়ুদূষণ ও মাটি ক্ষয়ের কারণে স্থানীয় জনজীবনও বিপর্যস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ আদালতের এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে অনেকে জেলার অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে এসব অবৈধ স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়